স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ আবদুল জব্বারের মৃত্যুতে ঢাবি উপাচার্যের শোক প্রকাশ

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ আবদুল জব্বার-এর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

৩০ আগস্ট ২০১৭ বুধবার এক শোকবাণীতে উপাচার্য বলেন, সংগীতজ্ঞ আবদুল জব্বার পাঁচ দশকের বেশি সময় গানের ভূবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই শিল্পী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও অণুপ্রেরণা সৃষ্টি করতে অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন। দেশবাসী দেশপ্রেমিক এই শিল্পীর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

উপাচার্য মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।  

আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তাঁর গান গাওয়া শুরু। তিনি ১৯৬২ সালে চলচিত্রের জন্য প্রথম গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচিত্র ‘সংগম’-এর গানে কণ্ঠ দেন।

১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তাঁর গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৮ সালে ‘পিচ ঢালা পথ’ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে ‘পিচ ঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ এবং ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে ‘সুচরিতা যেয়ো নাকো আর কিছুক্ষণ থাকো’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচিত্রে আলম খানের সুরে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। তখন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ঘুরে প্রেরণা জোগাতে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেছেন। সে সময় গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল জব্বার ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।

উল্লেখ্য, আবদুল জব্বার রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ আগস্ট ২০১৭ বুধবার সকালে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। 
---------------
পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
 

 

Latest News
  • জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং ড. আনিসুজ্জামানকে সংবর্ধনা প্রদান

    19/07/2018

    Read more...
  • ঢাবি অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম স্বর্ণপদক ট্রাস্ট ফান্ডের নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সভা

    18/07/2018

    Read more...
  • ঢাবি জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

    17/07/2018

    Read more...
  • ঢাবি’র ৩জন ছাত্রকে সাময়িক বহিস্কার

    16/07/2018

    Read more...
  • বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ এ. এফ. এম. নজরুল মজিদ বেলাল-এর স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

    16/07/2018

    Read more...
  • Two-day Career Fest begins at DU

    16/07/2018

    Read more...
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে ঢাবি পরিবারের শ্রদ্ধা নিবেদন

    15/07/2018

    Read more...