উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন

উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন ৪ মার্চ ২০১৭ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় মনোরম সাজে। বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও ভবন ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। কালো গাউন পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে। দিনভর ছবি তোলা, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা, হৈ চৈ ও কোলাহলে  মেতে থাকে সবাই।

 বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টারিও ( University of Western Ontario, Canada )-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা ( Professor Amit Chakma ) সমাবর্তন বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সাইটেশন পাঠ ও ভাষণ প্রদান করেন। প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এসময় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো: আখতারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক     ড. মো: কামাল উদ্দীনসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বিশ^বিদ্যালয়ের সিনেট-সিন্ডিকেট  সদস্য ও একাডেমিক পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।


সমাবর্তনে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমাকে ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১জন গবেষককে পিএইচডি, ৪৩জনকে এমফিল, ৮০জনকে স্বর্ণপদক এবং ১৭ হাজার ৮শ’ ৭৫জন গ্র্যাজুয়েটকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনগণ অনুষদভুক্ত বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ডিগ্রিপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েটদের নাম উপস্থাপন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো: এনামউজ্জামান সমাবর্তন অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ ব্যক্তি ও পরিবারের চেয়ে দেশ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহŸান জানান। দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে মজবুত করতে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই সে নেতৃত্ব তৈরী করতে হবে। অতীতের ছাত্র রাজনীতি এবং বর্তমানের ছাত্র রাজনীতির মধ্যে অনেক তফাৎ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ষাটের দশকে ছাত্র-রাজনীতির আদর্শ ছিল দেশ ও জনগণের কল্যাণ সাধন করা। সেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থের কোন স্থান ছিলনা। ছাত্ররাই ছাত্র-রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত। লেজুড়বৃত্তি বা পরনির্ভরতার কোন জায়গা ছিলনা। কিন্তু বর্তমানের ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তি বা

গোষ্ঠী স্বার্থের প্রাধান্য বেশী। কিছু ক্ষেত্রে অছাত্ররাই ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব দেন। ফলে ছাত্র রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষ ও  সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সমর্থন কমে যাচ্ছে। তিনি আদর্শভিত্তিক ও কল্যাণমুখী ছাত্র রাজনীতি করার জন্য সকলের প্রতি আহŸান জানান। নিয়মিত ছাত্রদের ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্বে আনতে তিনি ডাকসু নির্বাচনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত না করার জন্যও তিনি গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহŸান জানান। তিনি বলেন, সমাজ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থেকে জাতির প্রত্যাশা পূরণে গ্র্যাজুয়েটদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে জ্ঞানভিত্তিক কাঠামো নির্মাণ করতে হবে। সকল শিক্ষার মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানব কল্যাণ। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন বা পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে দেশের কল্যাণ সাধন সম্ভব নয়। এ জন্য তাদের ভাল মানুষ হতে হবে। বর্তমান বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষিত হয়েও অনেকে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। একারণে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে সকল সামাজিক সমস্যা সমাধানের  উপায় বের করতে হবে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র থাকাকালে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। নতুন প্রজন্মকে এই ইতিহাস জানতে হবে।

    কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমা বলেন, জীবনে সফল হওয়ার জন্য ৩টি বৈশিষ্ট্য জরুরী । তা হলো- যোগ্যতা, কর্মনিষ্ঠা ও চারিত্রিক গুণ। নিজের দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে এসব গুণ অর্জন করতে হবে। ভাল ও মন্দের বিচার করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। নীতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নীতিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকল গ্র্যাজুয়েট নেতৃত্ব দিলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।
                ------------

(মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম)
উপ-পরিচালক
জনসংযোগ দফতর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ আজ ৪ মার্চ ২০১৭ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন ওন্টারিও-এর প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক অমিত চাকমাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব সায়েন্স’ ডিগ্রি প্রদান করেন।



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ৪ মার্চ ২০১৭ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট উপহার দেন।


বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো: আবদুল হামিদ ৪ মার্চ ২০১৭ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে কৃতী গ্র্যাজুয়েটদের স্বর্ণপদক প্রদান করেন।

Latest News
  • Rabindra Bharati University VC calls on DU VC

    23/11/2017

    Read more...
  • Japanese Professor meets DU VC

    21/11/2017

    Read more...
  • Two Australian Professors meet DU VC

    21/11/2017

    Read more...